রাষ্ট্রবাদ বনাম বিচ্ছিন্নতাবাদ: বাংলার আগামী লড়াই/ কলমে সৌমেন বসু
রাষ্ট্রবাদ বনাম বিচ্ছিন্নতাবাদ: বাংলার আগামী লড়াই
সৌমেন বসু
এবারের ভোটে যদি বিজেপি না জিততো তাহলে কি হতো। কিছু খুন। কিছু মারামারি।
না ব্যাপারটা ঠিক অতটাও সরল নয়।
এ বারে ভোটে বিজেপি না জিতলে এতদিন পশ্চিমবঙ্গকে ভারত থেকে বিচ্ছিন্ন করে আলাদা দেশ গঠনের দাবি তোলা হত আন্তর্জাতিক মঞ্চে। তার সব প্রস্তুতি প্রায় সেরে রাখা হয়েছিল। বিভিন্ন গোয়েন্দা দপ্তর সব জানে। এর জন্য গত ৫ বছর ধরে নেওয়া হয়েছিল ten points agenda '.
এগুলি কি। প্রথমত- বাংলা ভারতের অন্য রাজ্যের সঙ্গে একাত্ম নয়। তাই সরকারি লোগো পালটে ফেলা। অশোক স্তম্ভের জায়গায় বিশ্ব বাংলা নিয়ে আসা।
দ্বিতীয়ত -ভারতের অন্য রাজ্যের মানুষ এখানে বহিরাগত এটা বার বার বলা। প্রমান করা ভারত আলাদা। বাংলা আলাদা।
তৃতীয় - হিন্দী সাম্রাজ্যবাদ আমাদের চাপিয়ে দেওয়া হচ্ছে এটা প্রমান করা।
চতুর্থ - গর্গ চ্যাটাজির মত লোক কে সামনে এনে বাঙালি অস্মিতার নামে বিচ্ছিন্নতাবাদকে চাগিয়ে তোলা।
পঞ্চমত - স্কুল স্তরে ভাষার সুক্ষ বদল। আকাশ কে আসমান, রামধনু রঙ্ধনু করা।
ষষ্টত বাংলাদেশের আলবদর না আনসারুল বাংলার সংগে নিয়মিত যোগাযোগ রাখা ও তাদের আর্থিক সাহায নেওয়া।
সপ্তমত - জনবিন্যাসের বদল। দাঙ্গায় মদত দেওয়া।
অষ্টমত ভারতের বিভিন্ন প্রান্তে বাঙালীরা মার খাচ্ছে এটাকে সামনে নিয়ে এসে বাঙালী ভারতের দ্বারা অত্যাচারিত জাতি এটা আন্তর্জাতিক ক্ষেত্রে প্রমান করা।
নবমত মাছের ইস্যুকে সামনে নিয়ে এসে এটা প্রমান করা যে বাঙালিদের খাদ্যাভাসের ক্ষেত্রেও দিল্লির দমন নীতি চলছে।
দশমত বাংলাদেশের সমর্থনে আন্তর্জাতিক ভাবে আলাদা দেশ গঠনের দাবি তোলা। এ ব্যাপারে সক্রিয় ছিল গর্গ গ্যাঙ।
অজিত দোভাল যখন বার বার বাংলায় এসেছিলেন তখন থেকেই ছবিটা পরিস্কার হয়ে গিয়েছিল।
সুতরাং রাষ্ট্রবাদীদের এবার জিততেই হতো।
এখন প্রশ্ন বাংলাকে বিচ্ছিন্ন করার জন্য যারা কোটি কোটি ইনভেষ্ট করেছে তারা কি চুপ থাকবে। মোটেও না। চক্রান্ত চলবেই। এবার আরো গভীরে।
তাই গ্রামে গঞ্জে শহরে আলাদা লড়াই না করে সকল রাষ্ট্রবাদীকে এক হতেই হবে। আগামীর লড়াই কিন্তু রাজনীতির নয়। তৃনমূল বিজেপির নয়। রাষ্ট্রবাদের সঙ্গে বিচ্ছিন্নতাবাদীদের। কলকাতার বুদ্ধি বেচে খাওয়া এলিটদের সঙ্গে গ্রামের চাষা মজুরদের যারা গর্বের সঙ্গে বলতে পারে - বন্দে মাতরম। ভারত মায়ের জয় হোক।
Comments
Post a Comment