লোডশেডিং করে জেতা' বিরোধী দলনেতা আজ বাংলার মুখ্যমন্ত্রী!
'লোডশেডিং করে জেতা' বিরোধী দলনেতা আজ বাংলার মুখ্যমন্ত্রী! ভাবা যায়? অনেক তাবর তাবর বিজেপি নেতাও তো অকপটে স্বীকার করেছিলেন, 'শুভেন্দু আসার পড় থেকেই বিজেপির ভোট কমেছে'!
কলমে সৌমেন বোসু
যে সয়, সে রয়। একুশের ভোটে বিজেপির হার নিশ্চিত জেনেও সেদিন শাসক শিবির ছেড়েছিলেন শুভেন্দু অধিকারী। উড়ে এসে জুড়ে বসা ভাইপোর কাছে সেদিন মাথা নোয়াননি তিনি। বিধায়ক পদ থেকে দুই দুটি মন্ত্রীত্ব, জেলা সভাপতির পদ সবটা ছেড়ে বিজেপি তে এসেছিলেন। অনেকেই বলল, 'পিছন থেকে মমতার ছবিটা সরে গেলে, কে শুভেন্দু?'
২১ এ বিজেপি হারলো। কিন্তু আশার আলো টিমটিম করে জ্বালিয়ে রাখলেন তিনিই। নন্দীগ্রামে ১৯৫৬ ভোটে হারালেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় কে। মমতার 'লোডশেডিং এর অজুহাত' একসময় মানুষ বিশ্বাস করতে শুরু করলেন। কথায় আছে, 'একটি মিথ্যাকে বারবার বললে তা একসময় সত্য বলে মনে হতে পারে।' তাই হলো।
বিরোধী দলনেতা হয়ে বিজেপির কাটা যাওয়া অঙ্কগুলো নতুনভাবে কষতে শুরু করলেন শুভেন্দু। বিধানসভা উত্তাল। ২১৫ জনের টিম ৭৭ জনকে নিয়ে হিমশিম খাচ্ছে। নেতৃত্বে কে? সেই শুভেন্দু। বহুবার সাসপেন্ড ও হলেন তিনি। ইতিমধ্যেই পাহাড় প্রমাণ দুর্ণীতি থেকে আরজিকর... তৃণমূলের প্রতি মানুষ আস্থা হারাতে শুরু করেছে। সুযোগ ছাড়েননি শুভেন্দু। এই অপশাসনের বিরুদ্ধে লাগাতার বিক্ষোভ, মিছিল, মিটিং..! পুলিশ আটকাচ্ছে, পিটাচ্ছে, ভোইপো গ্যাং গাড়ির কাঁচ ভাঙছে... শুভেন্দু শুভেন্দুতেই।
লোকসভার পর বুঝলেন, হিন্দু ভোটের ম্যাসিভ কনসোলিডেশন ছাড়া বিজেপির বঙ্গজয় অসম্ভব। প্রতিটি জেলার বিধানসভা ধরে ধরে 'পরিবর্তন সঙ্কল্প যাত্রা' শুরু করলেন শুভেন্দু। একের পর এক জনসভা 'জনসমুদ্রে' পরিণত হচ্ছে। মানুষের কাছে তুলে ধরলেন তৃণমূলের অপশাসন থেকে বিজেপির ইস্তেহার। গ্রাম থেকে শহর, অসহায় মানুষ প্রতিবাদের ভাষা খুঁজে পেল। শাসকের রক্তচক্ষু উপেক্ষা করে প্রকাশ্যে বিজেপির ঝান্ডা কাঁধে তুলে নিলেন বহু মানুষ। পুকুরে ফলিডল থেকে চাকরির বদলি... মানুষ থামেনি। সংগঠন বাড়লো বিজেপির। মানুষের মুখে মুখে ছড়িয়ে গেল.. 'হিন্দুদের শেষ ট্রেন এটাই'।
ভোটের দিন ভোট কেন্দ্রে, ভোট শেষে স্ট্রং রুমে, রেজাল্টের দিন কাউন্টিং এ তার পুরোনো দল কি কি করতে পারে সবটা অক্ষরে অক্ষরে জানতেন শুভেন্দুবাবু। তাই ২১ আর ২৪ এর থেকে শিক্ষা নিয়ে আঁট ঘাট বেঁধেই নামলেন এবার।
ঠিক শেষ মুহূর্তে, ভবানীপুরে নিজেকে বাজিতে লাগিয়ে তৃণমূলের বিরুদ্ধে প্রকাশ্যে যুদ্ধ ঘোষণা করাই ছিল শুভেন্দুর শেষ চাল।
অবশেষে 'লোডশেডিং' তত্ব কে অবলীলায় মিথ্যা প্রমাণ করে ১৫১০৫ ভোটে ভবানীপুরে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় কে হারালেন শুভেন্দু অধিকারী। ভবানীপুরে 'পাঠা' ব*লি হলো। নন্দীগ্রাম ওনার মাটি, জিতবেন জানতেন। কিন্তু ২০৭? লেটার হয়তো আশা করেছিলেন তবে স্টার মার্কস! এতোটা হয়তো ভাবেননি...
'মুখ্যমন্ত্রী' চেয়ারটা'য় এই মানুষটাই যোগ্য। খুব রকম যোগ্য। বিজেপির সমস্ত নেতা খেটেছেন, প্রাণপাত করেছেন পরিবর্তনের লক্ষ্যে। কিন্তু আমার মতে, বিজেপির বঙ্গজয়ের 'প্ল্যাটফর্ম' তৈরী করেছেন বর্তমান মুখ্যমন্ত্রী
Comments
Post a Comment