পানিহাটিতে মনোনয়ন জমা: আরজি কর কাণ্ডের নির্যাতিতার মা প্রার্থী, বিজেপির আক্রমণে তৃণমূল
পশ্চিমবঙ্গের বিধানসভা নির্বাচন ২০২৬-কে ঘিরে রাজনৈতিক উত্তেজনার মধ্যেই উত্তর ২৪ পরগনার পানিহাটি কেন্দ্রে এক গুরুত্বপূর্ণ রাজনৈতিক ঘটনা সামনে এসেছে। আরজি কর ধর্ষণ-খুন কাণ্ডে নিহত তরুণী চিকিৎসকের মা রত্না দেবনাথ বিজেপির প্রার্থী হিসেবে বৃহস্পতিবার আনুষ্ঠানিকভাবে মনোনয়ন জমা দিয়েছেন।
এই মনোনয়ন প্রক্রিয়ায় তাঁর পাশে ছিলেন প্রাক্তন কেন্দ্রীয় মন্ত্রী ও বিজেপি নেত্রী Smriti Irani। তিনি এই ঘটনাকে “ন্যায়ের লড়াইয়ের প্রতীক” হিসেবে তুলে ধরেন এবং রাজ্যের শাসক দল তৃণমূল কংগ্রেসের বিরুদ্ধে তীব্র আক্রমণ করেন।
সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে স্মৃতি ইরানি বলেন, তিনি এমন এক মায়ের পাশে দাঁড়াতে এসেছেন, যার মেয়েকে নির্মমভাবে ধর্ষণ করে হত্যা করা হয়েছে। তাঁর বক্তব্যে স্পষ্টভাবে উঠে আসে যে, এই প্রার্থিতা শুধুমাত্র রাজনৈতিক নয়, বরং ন্যায়ের দাবিতে এক প্রতীকী লড়াই।
তিনি অভিযোগ করেন, রাজ্যে মহিলাদের নিরাপত্তা প্রশ্নের মুখে এবং তৃণমূল কংগ্রেসের শাসনে দুর্নীতি ও সহিংসতা বেড়েছে। তিনি দেশবাসীর কাছে আহ্বান জানান, যাতে সবাই এই “সাহসী মা”-কে সমর্থন করেন।
স্মৃতি ইরানি অভিযোগ করেন, তৃণমূল কংগ্রেসের কর্মীরা রত্না দেবনাথকে অপমান করছে এবং তাঁকে ভয় দেখানোর চেষ্টা করছে। তাঁর বক্তব্য অনুযায়ী, একজন শোকাহত মাকে রাজনৈতিকভাবে হেনস্থা করা অত্যন্ত নিন্দনীয়।
অন্যদিকে, এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে পানিহাটিতে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। অভিযোগ উঠেছে, নির্বাচনী প্রচারের সময় কিছু মহিলা রত্না দেবনাথকে ঘিরে বিক্ষোভ দেখান এবং তাঁর বিরুদ্ধে স্লোগান দেন
রত্না দেবনাথ নিজেও গুরুতর অভিযোগ তুলেছেন। তাঁর দাবি, প্রচারের সময় কিছু লোক তাঁকে ঘিরে ধরে, আক্রমণের চেষ্টা করে এবং তাঁর দিকে জিনিস ছোড়ে। এমনকি কিছু ব্যক্তি তাঁর চুল টেনে ধরেন বলেও অভিযোগ করেন তিনি। এই ঘটনায় তাঁর সমর্থকদেরও আঘাত লাগে বলে জানা গেছে
পানিহাটি কেন্দ্র থেকে তৃণমূল কংগ্রেস প্রার্থী হিসেবে লড়ছেন তীর্থঙ্কর ঘোষ, যিনি বর্তমান বিধায়ক নির্মল ঘোষের ছেলে। এই কেন্দ্রটি এবার অত্যন্ত স্পর্শকাতর হয়ে উঠেছে, কারণ একদিকে সহানুভূতির ইস্যু, অন্যদিকে রাজনৈতিক প্রভাব—দুইয়ের লড়াই চলছে।
উল্লেখ্য, ২০২৪ সালের ৯ আগস্ট RG Kar Medical College and Hospital-এ এক তরুণী চিকিৎসকের মৃতদেহ উদ্ধার হয়। অভিযোগ, তাঁকে হাসপাতালের মধ্যেই ধর্ষণ করে খুন করা হয়। এই ঘটনা সারা দেশে তীব্র প্রতিবাদের সৃষ্টি করে।
পরবর্তীতে তদন্তের গাফিলতির অভিযোগ ওঠায় Calcutta High Court মামলার তদন্তভার Central Bureau of Investigation (CBI)-এর হাতে তুলে দেয়। ইতিমধ্যেই এই মামলায় একাধিক গ্রেপ্তার হয়েছে।
সব মিলিয়ে, পানিহাটির এই নির্বাচন শুধুমাত্র একটি সাধারণ রাজনৈতিক লড়াই নয়, বরং ন্যায়বিচার, সহানুভূতি এবং রাজনৈতিক প্রতিদ্বন্দ্বিতার এক জটিল মিশ্রণ হয়ে উঠেছে। আগামী দিনে এই কেন্দ্র রাজ্যের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ রাজনৈতিক কেন্দ্রবিন্দু হয়ে উঠতে পারে।


Comments
Post a Comment