যে জন্য ডেকেছি তোমায়/ কবি- নমিতা ঘোষ বসু
যে জন্য ডেকেছি তোমায়
কবি- নমিতা ঘোষ বসু
আমার চোখ ,
না বর্ণমালার অক্ষরে আবদ্ধ চোখ নয় ,
প্রতিদিনের হাঁটা পথের চোখ
ও আমায় রাস্তা দেখায় না ,
ঘড়ির কঁlটার মতো বিন্দু বিন্দু ঘাম,
শিথিল শরীরের মালিকানায় সাবেকি আওয়াজ বাঁধে ।
বাঁধে ছেঁড়া তারে জোড়া তালি ।
সময়কে কেনার ও দাবি রাখে ।
দাবি রাখে গোপন সংলাপ।
প্রতিশব্দের অস্থিরতার আকুল অভিলাস।
অনুভব করে অভেদের ঈশারা অমোঘ মোহিনী।
অঙ্গীকার করে প্রলয়ের আতিশয্য,চেতন চঞ্চলতার সূত্র।
ও মানতে চায়না যে রাজরাস্তা শুধুমাত্র সরলীকরণ।
সমাধানের জন্য কখনো কখনো
সেই শুকনো পাতা ,ভাঙা কাঁটা ,নুড়ি ,মরা পাখির পালকহীন ডানা
এদের কাছে আসতেই হয় ।
ভারসাম্য বজায় রাখতে গন্তব্য ঠিকানা কেবলই মুচকি হাসে।
তাহলে যে সুর্য ওঠার দায়বদ্ধতার মালিকানা সত্ব
ওর বংশানুক্রমিক হয়ে যাবে ।
কে বোঝাবে ওকে?
একরত্তি নি:শ্বাস?,বাতাস,?আগুন,?জল?
আলোর ফোয়ারা? ঝড়?
একে একে সবাই আসে আর ফিরে যায় শূন্যতার গর্জন ভেলায়।
এক-- সুর
সুর আসে কুহকী ডানা মেলে,
খরস্রোতা নদী পেরিয়ে পাহাড়ি গোধূলিতে নিয়ন্ত্রণ হারায়।
সবুজের স্নিগ্ধতায় বেচারা আশ্রিত তেহাই ,
সব মিলিয়ে যেন রাজকন্যা রাজপুত্রের টলমল রাত্রির অসমাপ্ত গল্প।
তাচ্ছিল্য মনেহয় প্রকৃতিকে।
তুমি কেবলই মুখস্থ করা গানের কলি,
কিম্বা হতে পার উত্থিত কোনো নৃত্য মুদ্রা
যা দিগন্ত চুম্বন আকাঙ্ক্ষায় উন্মাদে উন্মুখ!
প্রতিবাদী রূপান্তর
সমুদ্র শুকিয়েছে,নি:শব্দ মরুভূমি,অসহনীয় ক্যাকটাস।
এ যেন রক্তাক্ত বলাৎকার।
দুই----ছন্দ
জাদুকরী ছন্দ আসে পায়ের বেড়ি হয়ে ।
জীবনের দৈনন্দিন প্রাসঙ্গিকতার সাহিত্য তত্ব নিয়ে।
তার দাবি সে অন্তর্মুখ দিয়ে সৃষ্টি করে
আর বহির্মুখ দিয়ে প্রবহমানের ধারাবহিকতার নজির টানে ।
তার স্রোত দ্বৈরাজ্যের সেতু তৈরি করতে পারে ।
কখনো ইন্দ্রবজ্র আর উপেন্দ্রবজ্র দিয়ে অচিন্তকে
দ্রষ্টব্য করে তোলে,
আবার কখনো শব্দের স্পন্দন দিয়ে
অকৃত্রিম শব্দের মিলান ঘটায়।
কিন্তু ওতে কী এসে যায়?
বড়জোর চরাচরের বিষয়ান্তর হবে।
যুগান্তরের সনাক্তকরণ হবে কি?
হাস্যাস্পদ মনেহয় ।
এবারে ও স্রোত চরে আটকালো।
অর্থাৎ গতির সূচক সেই এক রৈখিক।
তিন---অলংকার
তারপর পাখির ধান খাওয়ার মতো গল্প বাড়ানোর বৃথা চেষ্টা।
বোকা অলংকার
যে তার নিজের অস্তিত্বকে নক্ষত্রের বাতাবরণে আলোকিত করে,
সে এসেছে দৃষ্টির দ্রষ্টা হয়ে!
যা হয়তো ক্ষণিকের দৃশ্য হতে পারত ।
যার নিজস্ব কোনো গতি নেই সে আবার গন্তব্য হতে চায়।
ঠিক যেন রামধনু থেকে রং তুলে নেওয়া এক অসহায় অনিশ্চিত।
4---- উপমা
এবারের জড়ো করা উধৃতি কিন্তু আশানুরূপ ।
এর দর্শনীর ভর আছে ,তবে ওজোন প্রশ্ন সূচক।
অর্থাৎ নামেই বৈচিত্রময়তা ।
যাকে সবসময় সব জায়গায় দেখতে পাওয়া যায় ।
সে সহযাত্রী কিন্তু সঙ্গতিবিহীন।
যে তুলোর ওজোনে ব্যাগ ভর্তিকরা নিজেই বোঝা ,
সে ভার বাড়াতে পারবে কি?
হে ঐ গৌরচন্দ্রিকাধারী আর কেউ নয়,
সে উপমা।
কখনো বর্ষা ঋতু দিয়ে রাগে স্থায়ী হয়,
কখনো বসন্ত ঋতুকে নিয়ে প্রেমের নাও বায় ।
কখনো শুভ্র বসনা শরৎ ঋতুতে শিউলির গন্ধ ছড়ায়,
কখনো হেমন্তে নবান্নের শিস ওড়ায়।
আকাশ বাতাস জল স্থল আগুন বরফ
সব জায়গাতেই তোমার বিহার।
হে বহুগামী তুন্দ্রামোহিনী
তোমাকে আমার মনোভ্রমণে সান্নিধ্য দিতে পারি
কিন্তু মন নিতে চেও না ।
কারণ মন আটকানোর তোমার ক্ষমতা নেই।
তুমি নিজেই অনাথ
তায় আবার আশ্রয়দাতার আস্ফালন!
5---আবহ
একফালি চাঁদ বাদল কটায়,অন্যথায় আলোর ফোয়ারা
জ্যোৎস্না যদি মনকে মাতায় পরেরটা ভীষণ বেয়াড়া।
আবহ
আর এক ভয়াবহ,
সৃষ্টি করতে পারে কিন্তু সৃষ্টির ওপর তার কোনো নিয়ন্ত্রন নেই।
ঠিক যেন আলাউদ্দিনকে ডেকে এনে কাজ দিতে না পারার মতো নিয়ত্রনহীনতা।
কখন কোন সময়কে নিয়ে যে রাস্তা হাঁটবে তা সে নিজেই জানে না ।
কখনো বৈরাগ্যকে কাছে ডেকে বিস্ময়কে আশ্রয় দিতে পারে,
আবার কখনো উৎসাহে নৌকো ভাসিয়ে উদ্বেগকে দাঁড় বাইতে বলতে পারে ।
তবে এটা ঠিক তরঙের ওপর তার যথেষ্ট দখল আছে ।
চিহ্নিতকরণ করতে কখনো তার ভুল হয় না ।
সে সুর থেকে ছবি যাই হোক না কেন ।
ওকে বিশ্বাস করা মানে তো সাজানো পরাজয়,
যেন পঙক্তিতে দাঁড়ি কমার আবহ সঙ্গীত ।
তুমি ব্যাপ্ত হতে পারো,কিন্তু বিশেষজ্ঞ নও,
তাই তুমি আশায় রাখতে পারো
কিন্তু আশ্বস্থ করতে পারো না ।
ইতিহাসের পটভূমিতে তুমি ডিক্টেটর মাত্র ।
6--
উত্তর পুরুষের দিবা স্বপ্নের কিছুটা সময় অতিবাহিত।
কিন্তু বৈশিষ্টগত দিক থেকে কোনো দীনতা নেই।
ভাসমান জলযানের মতো অর্থবধোকতায় উদার।
এখানে অহংকারী গভীরতাকেও কৈফিযতের মুখোমুখি হতে হয় ।
সক্রিয় পৃথিবী হয়তো তার পতিতকে পাঠাতে পারে
নগ্ন রাতের নক্ষত্রের অনুসন্ধান দিয়ে ।
ওতে কারণ শিল্পের আভা প্রাসঙ্গিকই হবে ।
আর নির্ভীক আত্মবিশ্বাস
স্বদর্পে হেঁটে যাবে অবশ্যই সীমা চিহ্ন মুছতে মুছতে ।
কিন্তু বিজ্ঞানের সাযুয্য কোথাও যেন বৈশিষ্ট্যগত মেরামতি করে যায় ।
তার উক্তি মৌলিকতার অহঙ্কার থেকে পরমাণুকে ও সরে আসতে হয়েছে ।
একই সাথে এটাও বলে যে মিলন যতই আকাঙ্ক্ষিত হোক না কেন বিভাজন অবধারিত।
না হলে স্মৃতি শ্বাসরুদ্ধ হয়ে যাবে যে ।
সেই কারণে কি সনাতনী স্বত:স্ফূর্ততার থেকে বিচ্ছেদী সচেতনতার অবয়ব?
7--
উত্তর খুঁজতে বেশিদুর যেতে হলো না।
স্পর্শ অনুভব করলাম প্রযুক্ত সুক্ষতার ।
পেছন ফিরে দেখি এবার আর কেউ একা আসেনি।
একসাথে ছয় জন ।
সুর এসেছে প্রকৃতি কে নিয়ে,
ছন্দ স্রোতকে নিয়ে,
অলংকার জ্যোতিকে নিয়ে,
উপমা ঋতুকে নিয়ে,
আর ওদের অস্তিত্বে এসেছে সন্নিৎ বা কবিতা
যার বৈচিত্রময়তা সারা নিখিলেই ব্যাপ্ত।
সর্বরাজ্য থেকে মহা শূন্য পর্যন্ত।
সে সম্পূর্ণ আত্মায় বিলীন।
মাথা নোয়ালাম অনন্ত সত্যের কাছে ।
.............
কাব্যগ্রন্থ----- ""যে জন্য ডেকেছি তোমায়""
কবিতার নামও ""যে জন্য ডেকেছি তোমায় ""
সাত টি পর্বে বিভক্ত ----
Comments
Post a Comment