শিরোনাম-কবির মৃত্যু হয় কবিতার নয়/ কবি____কর্ণধর মণ্ডল
শিরোনাম-কবির মৃত্যু হয় কবিতার নয়
কবি____কর্ণধর মণ্ডল
কবিতাঃ- যখন তুমি ডায়েরী আর কলম নিয়ে,
টেবিলে বসে মাথা গুঁজে এক মনে কি সব লিখতে!
আমি তখন বিস্ময় হয়ে আবেগে উদ্বেগে তোমাকে জিজ্ঞাসা করতাম......
--কি লিখছো কবি?
সারা দিনরাত এক মনে এক ধ্যানে একান্তে নির্জনে নিরালায়?
তুমি তখন আমায় সান্ত্বনা দিতে বলতে......
--তুমিই তো আমার কবিতা!
তাই শুধু তোমায় নিয়ে লিখছি......
সে কথা তোমার মনে আছে কবি?
কবিঃ-- আছে, বইকি!
তুমি তখন এলো চুলে আমার সামনে বসে,
গুন গুন সুরে রবীন্দ্র সঙ্গীত গাইতে!
আমি তখন বিভোর হয়ে তোমার মুখের পানে তাকিয়ে থাকতাম।
আর রাবেন্দ্রিক প্রেমে বিভোর হয়ে অজান্তে কাব্য জগতে হারিয়ে যেতাম।
তুমিই তখন তোমার হাতের কোমল স্পর্শে,
ফেরাতে আমার অবচেতন মনের চেতনা।
আবার আমি ফিরতাম লেখার জগতে।
সে কথা তোমার মনে আছে প্রিয়ে?
কবিতাঃ- মনে আছে কবিবর?
--তুমি যে কবি!
তোমার মনের ইচ্ছে উড়ান ভাবনা গুলো,
বিনী সুতোর মালায় গেঁথে একে একে জোড়া লাগিয়ে কাব্য সৃজণ করো।
কবিঃ-- সে তো তোমার জন্য প্রিয়ে!
সে ভাবনা তো তোমার জন্য......
তোমার জন্য মেঘলা দিনে রামধনু রঙ খুঁজে চলি,
তোমার জন্য মরুর বুকে বৃষ্টির আহ্বান করি।
তোমার জন্য আকাশ নীলে সুভ্র মেঘের ভেলা ভাসায়,
তোমার জন্য কাশ ফুলের আঁচল পাতি প্রকৃতির আঙিনায়।
কবিতাঃ- সত্যি সত্যিই কবি তুমি পাগল!
--কি দেখলে আমার মাঝে?
যে আমায় নিয়ে এক আকাশ কাব্য লিখে ফেললে?
কবিঃ-- সে কথা তোমার বলতে পারবোনা!
কিন্তু, তুমি আমার সহস্র কবিতার এক অনন্য অক্ষর যাপন।
যে শব্দের মাঝে দেখি আমার প্রিয়ের রূপ।
তোমার চোখে চোখ রাখলে নতুন পৃথিবীর ছবি আঁকি,
তোমার বুকে কান পাতলে যেন মনে হয়, আরো! আরো কিছু লেখা আছে বাকি।
তোমার হৃদয় ছুঁই যত বার নতুন কাব্যের জন্ম হয়,
তোমার প্রেমের স্বতঃস্ফূর্ততা আমার করে তোলে গীতিময়।
কবিতাঃ- থাক থাক, অনেক কাব্য হয়েছে!
এবার বলো তো কবি!
যেদিন আমি থাকবোনা;
সেদিন আমার মনে রাখবে?
আজকের মতো সেদিনও কি তুমি!
একান্তে নিরালায় বসে আমায় কথা ভাববে?
সেদিনও কি তুমি আমায় নিয়ে কাব্য সৃজণ করবে?
না....... কি!
নতুন করে আবার কোন কবিতার প্রেমে পড়বে?
কবিঃ-- এত দিন ধরে শুধু শুধুই শব্দে বন্দী হলে?
সত্যিই তুমি, আজো কবির কবিতা হতে পারলেনা!
যার প্রতিটি পঙংক্তিতে থাকবে আবেগের বর্হিপ্রকাশ,
যার প্রতিটি শব্দে থাকবে প্রেমের শিহরণ।
যার প্রতিটি প্লটে খুঁজে পাবো তোমার তুমিকে!
যে অনুভূতি জন্ম দেবে আমার সহস্র কবিতাকে।
একটা কবির জন্মানোর স্বার্থকতা, শুধুমাত্র কবিতার জন্য।
হয়তো সেও কবিতা হতে পারে,
ডায়েরীর পাতা জুড়ে শব্দের সাজানো বিন্যাস।
তুমি আমার সৃষ্টি, সেই কবিতা!
যা হৃদয়ের প্রতিটি রন্ধ্রে রন্ধ্রে প্রবাহিত শৈল্পিক সৃষ্টির উপন্যাস।
কবিতাঃ- আমি উপন্যাস?
--হা...সা...লে.... আমায় কবি।
--আজ সত্যি সত্যিই কবি! তুমি পাগল হয়ে গিয়েছো,
--পাগল! পাগল! পাগলই......
আমি জানতে চাইলাম তোমার প্রেমের গভীরতা!
তুমি ছড়িয়ে দিলে সারা শরীর জুড়ে আবেগী উষ্ণতা।
আমি স্পর্শ করতে চাইলাম উষ্ণ-দীর্ঘশ্বাস!
তুমি আমায় নিয়ে সৃষ্টি করলে জীবনের নব্য-ইতিহাস।
সত্যিই তুমি কবি......
তুমি আমার চোখে শুধুই! কবি----কবি----কবি!
"তুমিই সৃষ্টির স্রষ্টা কবি!"
কবিঃ-- জীবনের গল্প লিখলে বুঝি কবি হওয়া যায়!
--এটা তোমার ভ্রান্ত ধারণা!
জীবনের গল্প লেখা খুব সহজ;
কিন্তু, গল্পের মতো করে জীবনকে গড়ে তোলা যে ভীষণ কঠিন।
তবুও যে চেষ্টা করি.....!
জীবনে টুকরো টুকরো আবেগ-অনুভূতি,
টুকরো টুকরো সুখ-দুঃখকে একটা ছন্দে গাঁথতে,
ছন্দে ছন্দে বানাতে ইমারত।
হয়তো এরাই একদিন আকাশ পথে পাড়ি দেবে, উড়াতে বিজয়রথ!
এই বিজয়রথে চেপে একদিন হারাবো তারার দেশে,
বেদনার অমরাবতীতে স্মৃতির জীবাশ্ম হয়ে রব মিশে!
কবিতাঃ- "আজ বুঝলাম কবি!
তোমার স্মৃতি বয়ে বেড়াতে আমার জন্ম।"
"আমি যে তোমার হৃদয় পেত্রাপটে কল্পনার প্রতিচ্ছবি।"
কবিঃ-- হ্যাঁ, কবিতা!
তুমিও যে আজ ভাবনা পিয়াসী।
--হবেই না বা কেন?
"তুমি তো কবির মানস কন্যা!"
"কবির কলমের আঁকিবুঁকিতে যে তোমার জন্মের ইতিহাস!"
"তাই তো! তোমার মাঝে কবির আত্মপ্রকাশ।"
"কবিতার কখনো মৃত্যু হয় না!
কবিতা'রা চির-শাশ্বত, চির-ভাস্বর।
আর কবির মৃত্যু অবশ্যম্ভাবী।
শুধু কবিতার অলিন্দের প্রকোষ্ঠে রক্তপ্রবাহে তোলে দুরন্ত স্মৃতিঝড়!"
আর তুমি বলছিলে.......
--মৃত্যুর কথা?
--আমি বলছি.....
"কবিতার কখন মৃত্যু হয়না! কবিতার কখন মৃত্যু হয়না।"
"কবিতারা ফিরে আসে নব আঙ্গিকে, নব ভাবনায়, নব নব রূপে।"
"শুধুমাত্র কবিতা'ই পারে কবিকে বাঁচিয়ে রাখতে!"
"তাঁর নব নব পুণঃরাবৃত্তিতে........"
কারন--- "কবির মৃত্যু হয়, কবিতার নয়!"
Comments
Post a Comment