পশ্চিমবঙ্গের রাজনীতি ও বিএসপি-র আদর্শ: মনোরঞ্জন বাগচীর দৃষ্টিভঙ্গি


পশ্চিমবঙ্গের রাজনীতি ও বিএসপি-র আদর্শ: মনোরঞ্জন বাগচীর দৃষ্টিভঙ্গি

অশোকনগর ১০১ নম্বর বিধানসভা কেন্দ্রের বিএসপি সম্পাদক মনোরঞ্জন বাগচী ১৯৯৭ সাল থেকে এই দলের সঙ্গে যুক্ত। পেশায় শিক্ষক এই মানুষটি দীর্ঘকাল ধরে আম্বেদকরবাদী রাজনীতির সাথে যুক্ত এবং বর্তমানে তাঁর দলের হয়ে এলাকায় সক্রিয় ভূমিকা পালন করছেন।


রাজনৈতিক আদর্শ ও লক্ষ্য: মনোরঞ্জন বাগচীর মতে, বিএসপি মূলত বাবাসাহেব আম্বেদকরের সংবিধানপ্রদত্ত আদর্শ এবং হরিচাঁদ ও গুরুচাঁদ ঠাকুরের ভাবধারায় পরিচালিত হয়। তাঁর মতে, সংবিধানের ধারাগুলো সঠিকভবে ইমপ্লিমেন্ট করলে মানুষের কোনো অভিযোগ থাকতো না। দলিত, এসসি, এসটি, ওবিসি এবং সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের অধিকার রক্ষার লড়াই করাই তাঁদের মূল লক্ষ্য।


বামপন্থী ও তৃণমূল কংগ্রেসের সমালোচনা: বামফ্রন্ট তিনি স্বীকার করেন যে বামপন্থীদের দর্শনের সাথে তাঁদের মিল আছে, কিন্তু মারিচঝাঁপিতে দলিতদের ওপর হওয়া অকথ্য নির্যাতনের কারণে তিনি বামপন্থীদের সমর্থন করেন না। তাঁর মতে, বাম আমলের সেই হত্যাকাণ্ড জালিয়ানওয়ালাবাগের ঘটনাকেও ছাপিয়ে গিয়েছিল।

তৃণমূল কংগ্রেস: বর্তমান সরকারের 'লক্ষ্মীর ভাণ্ডার' বা রাস্তাঘাটের উন্নয়নের মতো কিছু প্রকল্পের প্রশংসা করলেও তিনি দুর্নীতির কড়া সমালোচনা করেছেন। বিশেষ করে শিক্ষাক্ষেত্রে দুর্নীতি এবং পার্থ চট্টোপাধ্যায়ের বাড়ি থেকে টাকা উদ্ধারের ঘটনাকে তিনি নিন্দনীয় বলে উল্লেখ করেছেন। এছাড়া আরজি কর কাণ্ডে সিবিআই তদন্তের দীর্ঘসূত্রিতা এবং দোষীদের শাস্তি না পাওয়া নিয়ে তিনি ক্ষোভ প্রকাশ করেন।


মতুয়া ভাবাবেগ: মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় কর্তৃক গুরুচাঁদ ঠাকুরের নাম উচ্চারণে ভুলের (গরুচাঁদ বলা) বিষয়টি তাঁকে এবং মতুয়া সমাজকে গভীরভাবে ব্যথিত করেছে বলে তিনি জানান।


ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতা ও বঞ্চনা: বিএসপি করার কারণে এবং শাসক দলের বিরোধী হওয়ার কারণে তিনি ব্যক্তিগতভাবে বঞ্চনার শিকার হয়েছেন বলে দাবি করেন। তাঁর অভিযোগ, আবাস যোজনা এবং আমফানের ত্রাণের জন্য আবেদন করলেও তাঁর নাম তালিকা থেকে বারবার কেটে দেওয়া হয়েছে, অথচ অনেক স্বচ্ছল ব্যক্তি সেই সুবিধা পেয়েছেননির্বাচনী প্রত্যাশা: উত্তরপ্রদেশে মায়াবতী সরকারের উন্নয়নমূলক কাজের উদাহরণ টেনে তিনি আশা প্রকাশ করেন যে পশ্চিমবঙ্গেও বিএসপি-র ভোট ব্যাংক বাড়বে। অশোকনগর কেন্দ্রে তাঁদের প্রার্থী তারকেশ্বর হাওলাদার। মনোরঞ্জন বাগচী আশা করছেন যে অশোকনগর বিধানসভায় তাঁদের দল অন্তত ৫০০০ ভোট পাবে এবং এবার পশ্চিমবঙ্গে বিএসপি আসন জিততে সক্ষম হবে

ব্যক্তিগত স্বার্থের চেয়ে আদর্শকে বড় করে দেখে মনোরঞ্জন বাগচী দীর্ঘকাল ধরে বিএসপি-র লড়াই জারি রেখেছেন। দুর্নীতির বিরুদ্ধে এবং সাধারণ মানুষের অধিকারের দাবিতে তিনি তাঁর দলের হয়ে কাজ করে যেতে বদ্ধপরিকর।

Comments

Popular posts from this blog

প্রণাম গ্রহণ করো নির্মম/ কলমে- ইলা রায় মল্লিক

শান্তিনিকেতনে ‘একদুনিয়া’র শুভ সূচনা: প্রযুক্তি ও প্রতিভার নতুন দিগন্ত

অশোকনগরে পরিবর্তনের ডাক: নিকাশি, স্বাস্থ্য ও শিক্ষা ব্যবস্থাকে হাতিয়ার করে জয়ের লক্ষ্যে বিজেপি