রাজনৈতিক রং বদলের খেলায় হারিয়ে যাচ্ছে আদর্শ

রাজনৈতিক রং বদলের খেলায় হারিয়ে যাচ্ছে আদর্শ
সৌমেন বসু (অশোকনগর)

মুসলিম ও বামপন্থী দুজনেই আল-ত্বাকিয়ায় বিশ্বাস করে, যারা ৪ ঠা মে দুপুর থেকে বিজেপি হয়েছেন তাদের অনুরোধ করবো আল-ত্বাকিয়া কি সেটা গুগল সার্চ করে নেবেন.....

এইবার আসি আসল কথায়, ২০১৯ সালে বিজেপি লোকসভায় যখন ১৮ টি আসনে জয়ী হয়েছিল তখন বিজেপির নেতা থেকে কর্মী সবাই সিপিএমের দখল হয়ে যাওয়া পার্টি অফিসগুলো ফিরিয়ে দিয়েছিলো তৃনমূলের হাত থেকে কেড়ে যার ফলস্বরূপ ২০২১ সালের বিধানসভা নির্বাচনে 'নো ভোট টু বিজেপি' ক্যাম্পেইন করে ভোট কেটে তৃনমূল কে জিতিয়ে দিলো সিপিএম....

শূন্য যখন সিপিএমের পিছন ছাড়ছে না, তখন সিপিএম একটা পলিসি নিয়েছে ২০২৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনের আগে, সিপিএমের ভোট নেই এখন কিন্তু সিপিএমের বিভিন্ন নেতা প্রচার করছে আমরা বিজেপির হয়ে ভোট করেছি আর সেটা শুনে বিজেপির নেতা-কর্মীরা গদগদ হয়ে সিপিএমের পার্টি অফিসগুলো দখল মুক্ত করে ফিরিয়ে দিচ্ছে, এর ফল কতটা ভয়ঙ্কর কল্পনা করতে পারবেন না.....

তৃণমূল একটা পরিবারের দল ছিল কিন্তু সিপিএম একটা সামাজিক ব্যাধি, সিপিএম মানেই ধর্ম বিরোধী, দেশবিরোধী শক্তি, বর্তমানে সিপিএমের পরিবারের লোকজনরাই পদে বসে আছে তারা যতই বিজেপি করুক ওদের মাথায় কিন্তু সেই বামপন্থায় ঢুকে আছে, একটা সিস্টেমেই কাজ করছে এরা, প্রথমে তৃনমূলকে শেষ করলো আর এখন বিজেপিকে বিপদে ফেলার জন্য পরিকল্পনা করছে......

বিজেপির সকল নেতা-কর্মীদের কাছে অনুরোধ কোনো সিপিএমের পার্টি অফিস খুলে সৌজন্যতার পরিচয় দিতে যাবেন না, যদি কোনো প্রাক্তন সিপিএম বর্তমানে বিজেপি হয়েছে সেই যদি সিপিএমের পার্টি অফিস খুলে দিতে বলে তাকে আটকান কারন ওই লোকটিই সিপিএমের টুলকিট....

সিপিএম কতটা বিষাক্ত সেটা যারা ৩৪ বছর শাসন দেখেছে তারা ভালো করেই জানে, দেশের জন্য ক্ষতিকারক সবচেয়ে বেশী এই বামপন্থীরা, তাই এদের থেকে সাবধান, এলাকায় এলাকায় সিপিএমের টুলকিটদের চিহ্নিত করুন এরা যতোই 'জয় শ্রী রাম' করুক এদের একদম বিশ্বাস করবেন না....এলাকায় যা দেখছি, সত্যিই খুব চিন্তার বিষয়। 
যত নব-বিজেপি এর ছেলেদের দেখছি ততই অবাক হচ্ছি।
যেখানে বিজেপির নামে অনুষ্ঠান, খাওয়াদাওয়া, ছোটখাটো উৎসব হচ্ছে , সেখানে দেখা যাচ্ছে বেশিরভাগই (৫০-৬০%) আগে TMC-র সঙ্গে যুক্ত ছিল। আজ তারা রাতারাতি গেরুয়া পতাকা হাতে ঘুরছে, আর কিছু লোকাল নেতৃত্বও সেটা মেনে নিচ্ছে। 
সবচেয়ে কষ্টের বিষয় হলো, যারা এতদিন সত্যি বিজেপি করেছিল, মার খেয়েছে, লড়াই করেছে, সেই পুরোনো কর্মীরাই আজ চুপ করে পাশে দাঁড়িয়ে সব দেখছে।

এখন এমন অবস্থা হয়েছে যে এলাকায় রাজনীতি করতে গেলে কিছু দাদাগিরি টাইপ লোকের সঙ্গে চলতে হবে, এমন কথাও শুনতে হচ্ছে। লোকাল পাওয়ার যাদের হাতে সেই রকম বিজেপি এর এক মস্তান টাইপ এর ছেলে বললো এলাকায় পার্টি করতে হলে আমাদের সাথে চলতে হবে

যাদের বিরুদ্ধে একসময় মানুষ ভয় পেত, যাদের বিরুদ্ধে গুন্ডামি-তোলাবাজি এমনকি খুন-এর অভিযোগ ছিল, তারাই আজ দলে জায়গা পাচ্ছে। লেটেস্ট সংযোজন, এরকমই একজনকে যার বিরুদ্ধে অনেক খুনের অভিযোগ আছে TMC থেকে ৫ মে বিজেপি তে নিয়ে এসেছে।    
         
প্রশ্ন একটাই: এই পরিবর্তন কি আমরা চেয়েছিলাম?
রাজ্য নেতৃত্বের কাছে অনুরোধ, এখনও সময় আছে বিষয়টা গুরুত্ব দিয়ে দেখুন। না হলে সাধারণ সমর্থকদের মধ্যেও হতাশা বাড়বে। Detailed রিপোর্ট রাজ্য অফিস এ জমা পড়েছে, আপনারা দেখছেন না কেন? 
যারা আদর্শের জন্য পাশে ছিল, তারাও একসময় মুখ ফিরিয়ে নেবে, যার মধ্যে আমিও আছি।
..........
 

Comments